মোঃ জসিম উদ্দিন পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ে সামান্য বিষয় নিয়ে দুই প্রতিবেশির ঝগড়া থামাতে গিয়ে তাদেরই লাঠির আঘাতে মাথায় মারাত্মক ভাবে জখম হয়ে অবশেষে পৃথিবী ছাড়তে বাধ্য হলেন বাবু নামের এক মুদি দোকানদার।
আজ বুধবার(১৮ মার্চ) মৃতের ভাই রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে এ ঘটনায় দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ গাজোকাটি খারিজা ভাজনি প্রধানপাড়া এলাকায়। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে দীর্ঘ নয়দিন রংপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি থাকা অবস্থায় গত ১৫ মার্চ মারা যান তিনি। পোষ্টমর্টেম শেষে গতকাল ১৭ মার্চ বিকেলে নিজ এলাকায় লাশ পৌছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় সেখানে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গাজোকাটি বাজারে ছোট্ট মুদিখানার দোকান করে সংসার চালাতেন বাবু। গত ৯ মার্চ, ২০২৬ (সোমবার) দুপুরে বাড়ির পাশের সীমানার একটি গাছের শেকড়কে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশি আনিস ও সিদ্দিক ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এসময় তাদের থামাতে যান বাবু। একপর্যায়ে সিদ্দিকের ছেলে সেলিম এর ক্ষিপ্ত লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন তিনি। এসময় মাথার ক্ষতস্থান ও নাকমুখ দিয়ে রক্ত ঝড়তে থাকলে অন্য প্রতিবেশিরা দ্রুত দেবীগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যান তাকে। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে সাথে সাথে তাকে রেফার্ড করা হয় রংপুরে। সেখানেই দীর্ঘ নয়দিন পর অবশেষে গত ১৫ মার্চ ২০২৬ রবিবার মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন বাবু।
প্রতিবেশিরা আরো জানান, ব্যাক্তিগত জীবনে কারো সাথে কখনো কোন দ্বন্দ্বে জড়িত ছিলেন না বাবু। তবে, কেউ কখনো বিবাদে জড়ালে তা থামাতে তিনি সবসময় এগিয়ে যেতেন সবার আগে। ঘটনাটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত নাকি নিছক দুর্ঘটনা সেটার সুষ্ঠু তদন্ত চান তারা।
এদিকে পুত্রের সুস্থতার জন্য দোয়া আর চোখের পানি ফেলতে ফেলতে যেন নির্বাক হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধা বকুল খাতুন। পুত্রের এভাবে চলে যাওয়াকে কিছুতেই মানতে পারছেন না তিনি।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তিটির অকাল মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী দুই কন্যা ও একমাত্র ছেলে।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম মালিক জানিয়েছেন, পোষ্টমর্টেম শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।