
মোঃ জসিম উদ্দিন পঞ্চগড়
পঞ্চগড় জেলার বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে হাজারো মানুষের বসতবাড়ি ও কৃষি জমিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) গভীর রাতে হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশেষ করে মরিচ ও ভুট্টার খেত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অনেক কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ করেই শুরু হয় তীব্র শিলাবৃষ্টি। বড় আকারের শিলার আঘাতে অসংখ্য বসতঘরের টিনের চালা ফুটো হয়ে যায় এবং অনেক ঘরবাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইসঙ্গে মাঠের পর মাঠ ফসল নষ্ট হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা, যাদের জীবিকা সম্পূর্ণভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কৃষক জানান, কয়েক মিনিটের এই শিলাবৃষ্টিতেই তাদের পুরো মৌসুমের পরিশ্রম নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন, ফলে তারা এখন চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অনেক ক্ষেতের মরিচ গাছ ভেঙে গেছে এবং ভুট্টার গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।
খবর পেয়ে শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ৭টায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে যান পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, যাতে অতি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং সরকারি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যায়।
একজন মন্ত্রী হিসেবে সরাসরি কৃষকের মাঠে গিয়ে তাদের দুর্দশা প্রত্যক্ষ করা এবং পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই এটিকে মানবিক ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। কৃষকদের মাঝেও কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে, কারণ তারা আশা করছেন সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে।
এদিকে, শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে পুনরায় চাষাবাদ শুরু করতে পারেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
চেয়ারম্যান মোঃ রাজু আহমেদ খোকন
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আল মাহমুদ