পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় আবারও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নে শ্রমিক দলের নেতাদের ওপর অতর্কিত হামলা ও দলীয় কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রী ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় যুবলীগের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভান্ডারিয়া উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন মুন্সি এবং ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. জয়নায় খাঁর ওপর হঠাৎ করে হামলা চালায় ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল। হামলাকারীদের নেতৃত্বে ছিলেন জুয়েল খলিফা নামে এক ব্যক্তি।
ঘটনাটি ঘটে মঞ্জু মার্কেট সংলগ্ন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি-এর স্থানীয় কার্যালয়ে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই হামলায় কার্যালয় ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয় এবং সেখানে থাকা প্রধানমন্ত্রীর ছবিও নষ্ট এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
হামলায় গুরুতর আহত হন আল আমিন মুন্সি ও জয়নাল খাঁ। তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় দলের নেতাকর্মীরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
এদিকে, একই উপজেলার লক্ষ্মীপুরা গ্রামে পূর্বে সংঘটিত একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘিরে এখনও ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নাছির উদ্দিন মন্টু মুন্সিকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মন্টু মুন্সি ছিলেন একজন নিরীহ, সৎ ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল না। শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তিনি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।
নিহতের পরিবার জানায়, হত্যার পর শুধু তাদের প্রিয়জনকেই হারাতে হয়নি, বরং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়, হামলা চালানো হয় এবং তাদের জমিজমা দখল করা হয়। বর্তমানে পরিবারটি চরম দুর্দশার মধ্যে জীবনযাপন করছে। পরিবারের প্রধান, নিহতের পিতা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার অভাবে বাসায় রয়েছেন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা আজ দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরা গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা একবাক্যে বলেন, “নাছির উদ্দিন মন্টু মুন্সি ছিলেন সম্পূর্ণ নির্দোষ। এটি একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।” তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহত পরিবারের পুনর্বাসনের দাবি জানান।
সচেতন মহলের মতে, অতীতে সংঘটিত এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার নিশ্চিত করা হলে তা গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গুম পরিবারটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়দের কাছে আশ্রয় চেয়েছেন। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য পরিবারটি জোর দাবি জানিয়েছেন।
চেয়ারম্যান মোঃ রাজু আহমেদ খোকন
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আল মাহমুদ